New MPO 2022: নতুন এমপিও আবেদন করার আগে সতর্ক হোন

New MPO 2022: নতুন এমপিও আবেদন করার আগে সতর্ক হোন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের অনলাইন আবেদনে সতর্কতা, এমপিওভুক্তিতে শতভাগ সাফল্য আনবে।

New MPO 2022: স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি নতুন এমপিও আবেদন করার আগে সতর্ক হোন

MPO ভুক্ত প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা মূলত এমপিওভুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত হন। এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগ হোক বা পরিচালনা কমিটি দ্বারা- সকলকে বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করতে হয়।

এমপিও আবেদনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই না বুঝে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডকুমেন্টস দিচ্ছেন না। আবার দিলেও তা ভুল দিচ্ছেন। এতে এমপিও আবেদন নিষ্পত্তির সময় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা রিজেক্ট হচ্ছে।

এতে করে এমপিও আবেদনকারীগণ বেতন-ভাতা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্ভুল আবেদন দ্রুত এমপিওভুক্তিতে সহায়তা করে। আর ত্রুটিপূর্ণ আবেদন, এমপিওভুক্তির বাঁধা স্বরূপ।

কিছু বিষয়ে সতর্ক হলে, নির্ভুল আবেদন সাবমিট করা যায়। এতে শতভাগ এমপিওভুক্তির সম্ভাবনা থাকে।

এই প্রতিবেদনে, অনলাইনে নির্ভুল এমপিও প্রেরণে, কিছু বিষয়ে সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করবো।

সাম্প্রতিক এমপিও সংবাদ: MPO News: Teacher Monthly Pay Order Notice: এমপিও সংবাদ

এমপিও আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তথ্য ও পরামর্শ নিতে পারেন

এমপিও আবেদন প্রথমে যে দপ্তরে নিষ্পত্তি হবে, প্রয়োজনে সেখান থেকে তথ্য ও পরামর্শ নিতে পারেন। নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক স্কুল এর এমপিও’র ক্ষেত্রে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আর কারিগরি ও কলেজের ক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিতে পারেন। অর্থাৎ এমপিও আবেদন প্রথমে যে দপ্তরে নিষ্পত্তি হবে, সেখান থেকে তথ্য ও পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

নতুন এমপিও আবেদন করতে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুসরণ

বর্তমানে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে। অবশ্য নীতিমালার কিছু বিষয়ে পরিবর্তন হয়েছে, আরো কিছু বিষয় ভবিষ্যতে পরিবর্তন হবে।

পদের কাম্য যোগ্যতা, প্রাপ্যতা, শিক্ষার্থী সংখ্যা ইত্যাদির তথ্য ভালোভাবে জেনে নিন। এ বিষয়ে নিজে ভালো না বুঝলে, অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন। নিচের প্রতিবেদন থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা সংগ্রহ করে পড়ুন।

EMIS-MEMIS সফটওয়ারে এমপিও আবেদন প্রেরণের সময়সূচী

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর অধিন স্কুল-কলেজের এমপিও আবেদন, ইএমআইএস সেল সফওয়ারের মাধ্যমে গ্রহণ করে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এর অধীনস্ত মাদ্রাসার আবেদন গ্রহণ করে, এমইএমআইএস (মেমিস) সেল।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এর কারিগরি প্রতিষ্ঠান এর আবেদন কিছু ম্যানুয়াল ও কিছুটা অনলাইনে সম্পাদিত হয়। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা মত সিস্টেম তারা এখনো উন্নয়ন করতে পারে নি।

অধিদপ্তর সমূহে শিক্ষক-কর্মচারীগণ সাধারণ এক মাস পরপর এমপিওভুক্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন। প্রতিটি অধিদপ্তর এমপিও সংশ্লিষ্ট মাসের পূর্বেই এমপিওভুক্তির সময়সূচী প্রদান করে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দপ্তর হতে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন প্রেরণ করুন। সঠিক সময়ে আবেদন প্রেরণ করা না হলে, সংশ্লিষ্ট মাসে এমপিওভুক্তি সম্ভাবনা খুবই কম।

আবার অনেকে শেষ মূহূর্তে তাড়াহুড়া করে আবেদন প্রেরণ করেন। যার ফলে ভুল তথ্য ও ডকুমেন্টস প্রেরিত হয়। যা এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে জটিলতা ও সময়ের অপচয় হয়। সবচেয়ে বড় কথা, কয়েক মাসের বেতন-ভাতার অর্থ থেকে বঞ্চিত হন।

এমপিও আবেদন করার আগে, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এর সময়সূচির প্রতি নজর দিন। পারতপক্ষে কিছু সময় হাতে রেখে আবেদন করুন। যাতে করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও তথ্য জোগাড় করা সহজ হয়।

অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইটে, এমপিও আবেদনের সময়সূচী সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করুন। অথবা Teacher News BD ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকুন। আমরা এ বিষয়ে নতুন কোন তথ্য পেলে প্রকাশ করবো।

আরো জানুন: NTRCA Recent Result Update: MCQ, Written and Final Exam

নতুন এমপিও আবেদন প্রেরণে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ডকুমেন্টস

আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ডকুমেন্ট এমপিও আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন তথ্য ভুল দিলে বা প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র সংযুক্ত না করলে, আবেদন রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যদিও বা এমপিওভুক্তি হয়, পরবর্তীতে তা সংশোধনের জন্য আবারো আবেদন করতে হয়।

এমপিও আবেদনে সনদ অনুযায়ী আবেদনকারীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ ইত্যাদির তথ্য খুব সাবধানে দিতে হবে।

ব্যাংক হিসাব নম্বর সতর্কতার সাথে লিখতে হবে। এখানে ভুল করলে বেতন-ভাতা পেতে সমস্যা হবে।

পরীক্ষা পাশের সকল সনদ প্রয়োজন হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট, এনটিআরসিএ সনদ, নম্বরপত্রও লাগবে।

সকল সনদের স্ক্যান কপি সঠিক জায়গায় সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ ও যোগদানপত্র ইত্যাদি ডকুমেন্টস সঠিক মান ও মাপে যুক্ত করতে হবে।

সনদ বা নিয়োগ, যোগদান পত্রে অস্পষ্টতা, ঘষামাজা ইত্যাদি থাকা চলবে না।

এমপিও আবেদনে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটি প্রদত্ত ডকুমেন্টস

এমপিও আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দপ্তর থেকে, নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য ও কাগজ-পত্র যুক্ত করতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্টস আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।

প্রতিষ্ঠান প্রধানের অগ্রায়ণ, নিয়োগ কালীন সকল রেজুলেশন, পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদির প্রয়োজন হবে।

প্রতিষ্ঠানের কিছু তথ্য ও দলিলাদির প্রয়োজন হবে। যেমন-প্রতিষ্ঠানের মঞ্জুরি, স্বীকৃতি, পরিচালনা কমিটি, বিষয় ও শাখা অনুমোদন ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয় তথ্যের একটি তালিকা বানিয়ে তা সংগ্রহ করুন। কোন কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তা সংগ্রহের দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

অনলাইনে এমপিও আবেদন প্রেরণে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কম্পিউটার অপারেটর এর সাহায্য নিন

দক্ষ ও অভিজ্ঞ কম্পিউটার অপারেটর এর কাছ থেকে এমপিও আবেদন করুন। অনেক সময় অদক্ষতার কারণে, কাগজ-পত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও আবেদনে অনেক ত্রুটি থাকে।

এ বিষয়ে নিরাপদ ও ঝামেলা মুক্ত থাকতে, এমপিও বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে- এমন ব্যক্তির সাহায্য নিন।

আপনি নিজে পাশে থেকে তথ্যগুলো সঠিকভাবে পূরণ করছে কী-না, তা দেখে নিন।

সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন প্রেরণ করলে, শতভাগ এমপিওভুক্তির সম্ভাবনা থাকে।

এরপরও কোন তথ্যের ঘাটতির কারণে আবেদন রিজেক্ট করলে, সাথে সাথে কাঙ্খিত তথ্য দিয়ে আবারো তা প্রেরণ করুন।

আরো জানুন:

Non-Govt. Teacher MPO: Monthly Pay Order News Update

আশা করি, অনলাইনে সঠিক এমপিও আবেদন প্রেরণে প্রতিবেদনটি সহায়তা করবে।

প্রতিবেদনে কোথাও কোন ভুল-ত্রুটি, অসঙ্গতি বা আরো কিছু যুক্ত করার থাকলে, মন্তব্য করে জানাতে পারেন।

তথ্যগুলো অন্যকে জানাতে ও সতর্ক করতে, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

তথ্যসূত্র-

EMIS, DSHE.

MEMIS, DME.

Share This:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

2 Comments

  1. নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০০৫ সালে কি ছিল।
    নতুন প্রতিষ্ঠান এর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কি কমিটি দিলে হবে না অন্যান্য লাগবে ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে। জানালে উপকার হয়।